বড়দিনের নতুন সান্তাক্লজ

বড়দিন, নতুন সান্তাক্লজ, কিংবা নতুন গ্যান্ডালফ ও তার সংগঠন!
প্রতি বছর বড়দিন এলেই শিশুরা ভাবে সাদাদাড়ী, সাদাচুল, পুরো গায়ে লাল জামাআবৃত, লালটুপিতে, হরিণের গাড়িতে চড়ে একজন সান্তাক্লজ আসবে। সান্তাক্লজ শিশুদের জন্য মুঠো মুঠো উপহার (খেলনা, চকোলেট অন্যান্য অনেক কিছু) নিয়ে আসবে তাদের প্রতি সদয় হবে এবং ভালোবাসবে।

সান্তাক্লজ আমাদের শিশুদের জন্য শুধুমাত্র উপহার দিয়েই ক্ষান্ত হবেনা বরং মুঠো মুঠো আদর, স্নেহ আর ভালবাসা নিয়ে আসবে! না সেই রুপে শিশুদের সাথে সান্তাক্লজের আর কখনোই দেখা হয়ে উঠেনি।

বিখ্যাত পরিচালক পিটার জ্যাকশনের দুনিয়াকাঁপানো মুভি ” The Lord of the Rings ” মুক্তি পাওয়ার পর সান্তাক্লজের মতোই শিশুদের প্রতি সদয় পরায়ন গ্যান্ডালফ নামে এক মহৎ মানুষের দেখা পাওয়া গেলো।

গ্যান্ডালফ শিশুদের খুব ভালোবাসে, ন্যায় পরায়ন এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল।
গ্যান্ডালফকে অবশ্য হরিণের পরিবর্তে ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে দেখা গেলো। শিশুদের মানসপটে হয়তো বড়দিনের উৎসবে গ্যান্ডালফের চিত্রও ভেসে উঠে।
সাদাদাড়ি, বিশাল লম্বা মতন, লাঠি হাতে, ঘোড়ার লাগাম ধরে আসেন এই মানুষটি। চুল সাদা, পোশাক সাদা, সব সাদা এই সাদাই যেন শুভ্রতা ছড়িয়ে দেয়! গোটা জনপদের শিশুদের মনে ছড়িয়ে পড়ে শুভ্রতা সৌন্দর্য আর ভালোবাসার ছোঁয়া। শান্তির সুবাতাস বয়ে যায়। কিন্তু হায় তারপর আর দেখা মেলেনি সত্যিকার সান্তাক্লজ আর গান্ডালফের।
হঠাৎ করেই আজ থেকে সাত বছর পূর্বে বাংলাদেশে প্রায় সান্তাক্লজের মতো একজনের দেখা মেলে। আজকাল অবশ্য পরিণত সান্তাক্লজের মতই মনে হয়।

borodin2015

বেশ লম্বা, সাদাদাড়ি, সাদাচুল ঠিক গ্যান্ডালফের মতোই যেন শুভ্রতা ছড়িয়ে পড়ে।
এই সান্তাক্লজ অবশ্য শুধু বড়দিনেই নয় দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে সারা বছরই কাজ করেন।

এই সান্তাক্লজ শুধু মাত্র উপহার দিয়েই শেষ নয় শিশুদের আনন্দ দেয়া থেকে শুরু ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়া, চিকিৎসা, খাদ্য, পুর্নবাসন সবদিকেই গভীর মনোযোগ।
অবশ্য ২০০৭ সালে পথশিশুদের সেবার জন্য সান্তাক্লজ একটা সংগঠনই গড়ে তোলেন।
এবার সান্তাক্লজের সহযোগিতায় ভালোবাসার পরিসর আরো বাড়ানো হলো। সময়ের পরিবর্তনে মানুষজন বাড়তে লাগলো। আদর, স্নেহ, ভালোবাসা, শুভ্রতা, শান্তি ছড়িয়ে দেয়ার পরিসর আরো বড়ো হলো।

তিরাশি বছর বয়সী এই সান্তাক্লজের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে শিশুরা, কয়েকদিন না দেখলেই পরিচিত শিশুরা সান্তাক্লজকে খুঁজতে থাকে। সান্তাক্লজকে পেলে যেন তাদের আর খুশির অন্ত নেই। সান্তাক্লজও অদ্ভূত! শিশুদের ভালো থাকা নিয়েই তার চিন্তা – ভাবনার সকল বিনিয়োগ।

আমাদের এই সান্তাক্লজের নাম হলো লুসিও ভাই। শিশুদের সকলের খুব প্রিয় নাম হলো লুসিও ভাই। সান্তাক্লজের গড়ে তোলার সংগঠনের নাম হলো “পথশিশু সেবা সংগঠন “।
আজকের বড়দিনের এই রাতে সান্তাক্লজ এবং তার সংগঠনের সকল সদস্যদের জন্য রইলো অজস্র শুভকামনা এবং ভালোবাসা।

যাদের মেধা, শ্রমে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এই ভালোবাসার প্লাটফর্ম।
আমাদের সান্তাক্লজ যেন শিশুদের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারে সেই কামনাই রইলো। দীর্ঘজীবি হোক সান্তাক্লজ এবং তার সংগঠন।
আপনিও ইচ্ছে করলে এই সান্তাক্লজের সংগঠনে যোগ দিয়ে সুবিধা বঞ্চিত, অসহায়, পথশিশুদের মধ্যে ভালোবাসা, আদর, স্নেহ, স্নিগ্ধতা, শুভ্রতা ছড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করতে পারেন।

আজকের বড় দিনে এই প্রার্থনাই রইলো আমরা যেন একেকজন সত্যিকারের সান্তাক্লজ হয়ে উঠতে পারি।
সকল শিশুদের প্রতি সদয় হয়ে, সহনশীল হয়ে তাদেরকে ভালোবেসে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা।

লেখা : শামীম

Leave a Reply