পদ্মা নদীর মাঝি

পথশিশুদের নিয়ে কাজ করি বেশ কিছুদিন ধরে। কিন্তু কাল একটি করুণ পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়েছিলাম।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার “পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে” জেলেদের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন এরা গরিবের থেকেও গরিব, ছোট লোকের থেকেও ছোটলোক। কিন্তু আমাদের পথশিশুদের অবস্থা ত দেখি তার থেকেও করুন। রিস্কা, ভ্যান চালক এদের ধরে পিটায়। ফুটপাতের ক্ষুদে দোকানদার এদের তাড়ায়। এরা চোখের ও মনের সুন্দর বিনষ্টকারী তাই রাস্তার সাহেবরা তাকাতেও অনিচ্ছুক।

গতকালের একটা ইভেন্ট ছিল পছন্দের মানুষের ছবি আঁকা। একটা ছেলে তার সমবয়সী ছোট বোনের ছবি একেছিল।তার এই বোনটিকে ৮-১০ বছর আগে ওর মা বিক্রি করে দিয়েছিল।আমাদের এক সহকর্মী(লতা আপু যিনি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে চিনেন)বলল তোমার বোনত ছোট কিন্তু চুল বড় কেন?সে বলল “আপু ও বড় হইছে না!”

আমরা সবাই নির্বাক হয়ে গেলাম। আমরা ভুলেই গেছি এদেরও একটা জীবন আছে, সুন্দর গল্প আছে। নির্মম কঠিন জীবন যাপনের মাঝেও মনের কোনে লুকিয়ে আছে মমতা, ভালবাসা, সজন হারানোর তিক্ত কঠিন বাস্তবতা।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার আইনে স্বাক্ষর কারি দেশ হিসেবে এদের অন্ন, বস্র,বাসস্থানের ব্যবস্তা করা সরকারে দায়িত্ত।কিন্তু তাঁরা ব্যস্ত আছে দেশকে কীভাবে উন্নত দেশ,মধ্য আয়ের দেশ, ধনী দেশ, ডিজিটাল দেশ করা যায়।এত সব কাজের মাঝে এদের দিকে তাকানোর সময় কোথায়।নৈতিকতা আর মানবিকতার পতাকাবাহী মধ্যবিত্তরা ডুবে আছে আকণ্ঠ ভোগবিলাসীতায়।

আব্দুল হাই রাসেল
পথশিশু সেবা সংগঠন।

Leave a Reply